
রান্নাঘরের আবর্জনা থেকে জৈব সার বানান খুব সহজে।
সবজি কাটার পর খোসা, শাকসবজি পরিষ্কার করার পর গোড়া, ডিমের খোসা কিংবা কলার খোসা আমরা ফেলে দিই রান্নাঘরের ডাস্টবিনে ।এগুলো না ফেলে খুব সহজেই আমরা বানিয়ে ফেলতে পারি গাছের জন্য উপকারী জৈব সার। নাইট্রোজেনে সমৃদ্ধ এই জৈব সার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে বহুগুনে।
যে উপকরণ গুলো ব্যবহার করতে পারেন জৈব সার তৈরির জন্য।
- কলার খোসা
- ডিমের খোসা
- নিম পাতা
- শুকনা পাতা
- চা পাতা
- কাঠ কয়লা
- শাক সবজির ফেলে দেয়া অংশ ইত্যাদি।

ডিমের খোসা রয়েছে ক্যালসিয়াম কার্বনেট। গাছের শক্তি বাড়াই এই উপাদানটি।ভিটামিন মিনারেল এনজাইম সম্মিলিত নিম পাতা পোকামাকড় আক্রমণ থেকে কাজকে সুরক্ষা করে ঝুরঝুরে মাটির দুর্গন্ধ দূর করে এবং সার তৈরিতে সাহায্য করে। কলার খোসা যোগান দেয় নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম এর মতো উপাদান। সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণ নাইট্রোজেন পাওয়া যায় গাছের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আমরা চা খাওয়ার পরে যে অবশিষ্ট অংশ ফেলে দিই সেটা গাছের জন্য খুবই উপকারী কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে চিনি মিশ্রিত চায়ের পাতা যেন আমরা ব্যবহার না করি।
যেভাবে তৈরি করবেন সার
সার তৈরির জন্য বড় একটা পাত্র নিতে হবে। প্লাস্টিক বা মাটির পাত্র নিতে পারন। নিচে কিছু ছিদ্র করে নিতে হবে। পাত্রটি বালতির মতো উঁচু হলে খুব ভালো হয়।। এতে পাত্রে থাকা বাকি জিনিসগুলো খুব ভালো হবে। কলার খোসা টুকরো টুকরো করে কেটে দিতে হবে। ডিমের খোসা হাত দিয়ে ভেঙ্গে দিতে হবে অথবা গুঁড়ো করে দিতে হবে। শাক সবজির ফেলে দেয়া অংশ এবং খানিকটা টক দই দিতে পারেন সবকিছু দেওয়া শেষ হলে উপরে একমুঠা জৈব সার অথবা মাটির লেয়ার দিয়ে ঢেকে দিন। তারপর কিছু পানি ঢেলে দিন। পত্রটি ট্রের উপরে রাখবেন। নিচে জমে থাকা পানি আবার ফেলে দিতে হবে। পাত্রটি অবশ্যই ঘরের বাইরে রাখতে হবে। তা না হলে দুর্গন্ধ বের হতে পারে। আলো, বাতাস ও গরম পরিবেশে সার তৈরি ভালো হয়। উপরের মাটি শুকিয়ে গেলে পানি ঢেলে দিতে হবে। এভাবে রেখে দিতে হবে ২০ থেকে ৩০ দিন। তারপরে মাটি শুকিয়ে গেলে মাসখানেক পরে নিড়ানি দিয়ে নেড়ে দিতে হবে এবং কিছু শুকনা পাতা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে যাতে দুর্গন্ধ না বের হয়। এভাবে রেখে দিতে হবে দুই থেকে তিন মাস, তারপরে এই সার ব্যবহারের উপযোগী হবে।

